ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারি দপ্তরে ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা দ্রুত সেবা নিশ্চিত করলে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে।
বুধবার ৭ অক্টোবর বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বিসিক আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দাপ্তরিক কাজে অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়। কোনো ফাইল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পড়ে না থেকে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তার মতে, ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হলে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কুটির ও হস্তশিল্পের সম্ভাবনার বিষয়েও বক্তব্য দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রচার এবং বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঘরে বসেই অনেক মানুষ কুটির শিল্পের মাধ্যমে সম্মানজনক আয় করতে পারেন। এ খাতে গার্মেন্টস খাতের তুলনায়ও বেশি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের কারিগরদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মান ও সৌন্দর্য আকর্ষণীয়। তবে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, কার্যকর প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। এতে উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের চাহিদার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জামালপুরের নকশীকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্য দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের পাশাপাশি মানুষ আবার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর পণ্যের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় কুটির শিল্পের ভূমিকার কথাও বলেন গয়েশ্বর। তার মতে, সমাজের অনেক নারী ঘরে বসে কুটির ও হস্তশিল্পের কাজ করে আয় করছেন। এর মাধ্যমে তারা পরিবারের আয়ে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেদের আত্মনির্ভরশীলতা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিসিক ভবনে আয়োজিত শরৎমেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। মেলায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।








