দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৩৫ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন করে মৃত্যুর ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এক দিনে প্রায় দুই হাজার নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর বাড়তে থাকা চাপের বিষয়টি তুলে ধরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকা এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্থানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিভাগেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছে।
নতুন করে পাঁচজনের মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে প্রতিদিনের মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের কোন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হচ্ছে এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ কেমন রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা উল্লেখযোগ্য। জ্বরের সঙ্গে এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২৯৪ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সরকারি উদ্যোগের সমন্বিত কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।










