বরিশাল নগরীর এয়ারপোর্ট থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাদকের আসর থেকে আটক এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সন্ধ্যার দিকে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম দেলোয়ার হোসেন। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার হোসেনসহ চারজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় ওই বাড়ি থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে দেলোয়ার হোসেনকে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ডোপ টেস্টের জন্য এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হেফাজতে দেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন এবং মাদকের আসর বসে। তথ্যের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকারী দলের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। সেখানে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে এয়ারপোর্ট থানায় যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে সরাসরি কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাদক সেবনের বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি ওই স্থানে কী কারণে গিয়েছিলেন, সেটি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে। একই সঙ্গে তার ডোপ টেস্ট করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযানে আটক অপর তিনজন হলেন নাহিদ হাসান, মো. মিরাজুল ইসলাম এবং ফাতেমা আক্তার নুরজাত। তাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে থানার হেফাজত থেকে দেলোয়ার হোসেনের চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, দেলোয়ার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এমন নয়। শাস্তির আশঙ্কায় তিনি কোথাও চলে গিয়ে থাকতে পারেন এবং তার সন্ধান করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হওয়ার পর একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার থানা হেফাজত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তিনি কী পরিস্থিতিতে থানা থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযানের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।








