যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থেকে ইরান সরে যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার জন্য একটি প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। চলমান সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার বিষয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলার সময়ও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান কখনো আলোচনার টেবিল ছেড়ে যায়নি।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখনই আলোচনা হয়েছে, তখনই তাঁর দেশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও ইরান আলোচনার পথ থেকে সরে আসেনি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাব তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং দেশটির অধিকারকে সম্মান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফাভাবে পদক্ষেপ নিতে থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সংঘাতের অবসান ঘটার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে। তাই সংকট নিরসনে আলোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
বৈঠকে রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পেজেশকিয়ান। জাতিসংঘে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পশ্চিমা উদ্যোগের বিরোধিতা করায় মস্কোর প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানানোর জন্যও রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসানে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। মস্কোর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তৈরি করা প্রস্তাবে কী কী বিষয় থাকবে, কখন তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে আলোচনার উদ্যোগ বাস্তবে কতটা অগ্রসর হবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর।










