নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও টেঁটাবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ এবং রাজু টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। আহতদের কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হৃদয় ও রাজুকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরের ইটভাটাগুলোতে মাটি ও শ্রমিক সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে কমিশন বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, আগে এসব ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর সমর্থিত সামেদ আলী বাহিনীর হাতে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইটভাটাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ। সম্প্রতি সামেদ আলী এলাকায় ফিরে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার দিন সকালে বক্তাবলী খেয়াঘাটে সমর্থকদের নিয়ে খিচুড়ি খাওয়ার পর হালিম আজাদ তাঁর লোকজনসহ আকবরনগর এলাকায় গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন।
হৃদয়ের অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং হালিম আজাদ তাঁকে গুলি করেন। তবে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
হালিম আজাদের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম হোসেন জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।









