তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫৩তম সম্মেলনে সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি। রোববার (১১ অক্টোবর) তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তাঁর নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধি দলের দেশে ফেরাকে আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার গত ৫ অক্টোবর আইপিইউ এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে এ দায়িত্ব বুঝে নেন। এ দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একই দিন আইপিইউর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি। তাঁর এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক সংসদীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন।
এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপে ৩৭টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই বৃহৎ আঞ্চলিক গ্রুপের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং নির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যের নির্বাচিত হওয়া দেশের সংসদীয় কূটনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে বিভিন্ন দেশের সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পিকারের সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, সানজিদা ইসলাম তুলি, সরওয়ার জামাল নিজাম, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন এবং রোকেয়া বেগম। তাঁরা সবাই জাতীয় সংসদের সদস্য।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সফর করেন।
রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্পিকার ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধি দল অবতরণ করলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।










