বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এই চাপ সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতের সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সংস্থাটির সহায়তা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে চুক্তির সম্ভাব্য আর্থিক পরিমাণ, সহায়তার ধরন কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ দেশের অর্থনীতি ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সহায়তার চূড়ান্ত রূপ ও শর্ত নির্ধারিত হবে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।










