কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের বাজারে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের দুই মেয়েকে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। শিশু দুটির বয়স পাঁচ বছর ও দেড় বছর। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায় এবং এক চাচির জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়। এদিকে শিশুদের বাবার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
শিশু দুটি হলো পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত ও তার দেড় বছর বয়সী ছোট বোন রোজা। তারা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের নাছির ও জেসমিন দম্পতির মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় শিশু দুটিকে একা দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় বড় বোন ইসরাত জানায়, তাদের মা চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে সেখানে নিয়ে এসেছেন। এরপর তিনি চলে যান, কিন্তু আর ফিরে আসেননি।
শিশু দুটির পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরে সেসব ছবি ও ভিডিও দেখে শিশু দুটির এক চাচি সেখানে পৌঁছান। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়রা শিশু দুটিকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেন।
শিশুদের চাচি জানান, তাদের বাবা নাছির কুমিল্লা নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। আগে পরিবারটি কুমিল্লা শহরে বসবাস করত। প্রায় চার মাস আগে নাছির ও জেসমিনের বিচ্ছেদ হয়। এরপর জেসমিন অন্যত্র বিয়ে করেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে শিশুদের চাচি মুঠোফোনে তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় জেসমিন জানান, তিনি ইচ্ছা করেই শিশু দুটিকে বাজারে রেখে গেছেন এবং তাদের আর নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, শিশুদের বাবা নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ভূঁইয়া রিপন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুদের মা তাদের ব্রাহ্মণপাড়া সদরে রেখে কুমিল্লা নগরে চলে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের এক স্বজনের কাছে নিরাপদে রয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, তিনি স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ওই চিকিৎসকের কাছে গেলে শিশু দুটিকে তাঁদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মা-বাবার বিচ্ছেদের মতো পারিবারিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে শিশুরা। তাদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে শিশু দুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব ও সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।










