ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন লিভারপুলের কিংবদন্তি সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড। তাঁর মতে, শুধু অবনমন করলেই সিটির শাস্তি সম্পূর্ণ হবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি দলবদল নিষেধাজ্ঞা ও পয়েন্ট কর্তনের মতো শাস্তিও বিবেচনা করা উচিত।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘ তদন্তের পর ক্লাবটির বিরুদ্ধে ১১৪টি অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও শাস্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষও এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘দ্য ওভারল্যাপ ডেইলি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেরার্ড বলেছেন, সিটিকে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে অন্য ক্লাবগুলোও নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব বুঝতে পারে। তাঁর ভাষায়, অন্য দলগুলোকে যে সময় ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সিটিরও তেমন পরিণতির মুখোমুখি হওয়া উচিত।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আলোচিত সময়ের মধ্যে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে লিগ শিরোপা হারিয়েছিল লিভারপুল। সে সময় লিভারপুলের অধিনায়ক ছিলেন জেরার্ড। ফলে সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সিটির সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে শিরোপা কেড়ে নেওয়া কিংবা দলটিকে চ্যাম্পিয়নশিপে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে জেরার্ড মনে করেন, বাধ্যতামূলক অবনমনও যথেষ্ট হবে না। কারণ, শক্তিশালী দল হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি দ্রুত প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসতে পারে। এতে শাস্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।
এ কারণে সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে রেখেই কয়েক বছর ধরে পয়েন্ট কর্তন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দলবদলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা। তাঁর মতে, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা শুধু সিটির জন্য নয়, পুরো ফুটবল ব্যবস্থার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জেরার্ড আরও প্রশ্ন তুলেছেন, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলো যে সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার প্রতিকার কীভাবে হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নিজের লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিততে না পারার হতাশা থেকে নয়, বরং ফুটবলে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন থেকেই তিনি এমন শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।










