চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি সোনার দোকানের শোকেসে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রায় ১৪ ফুট লম্বা একটি অজগর পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার দোভাষী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে দোকানিরা অজগরটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। মঙ্গলবার সকালে অজগরটিকে স্থানীয় রাম পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোভাষী বাজারের সন্ধ্যা জুয়েলার্স নামের একটি সোনার দোকানে অজগরটি দেখা যায়। দোকানের শোকেসে সাপটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দোকানি ও আশপাশের লোকজন। পরে সবার সহযোগিতায় কৌশলে অজগরটিকে শোকেস থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোভাষী বাজারের পাশেই রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ওই বনাঞ্চল থেকে প্রায়ই অজগরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগেও বাজার এলাকায় অজগর দেখা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার পাওয়া অজগরটি আকারে বেশ বড় হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
সন্ধ্যা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী রাজিব বণিক জানান, রাতে হঠাৎ দোকানের শোকেসে অজগরটি দেখতে পেয়ে তাঁরা ভয় পেয়ে যান। পরে অন্যদের সহযোগিতায় সেটিকে নিরাপদে নিচে নামানো হয়। মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে অজগরটি হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাপ্তাই বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট। মঙ্গলবার সেটিকে স্থানীয় রাম পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। বাজারের পাশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকায় সেখান থেকেই অজগরটি লোকালয়ে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এর আগেও ওই এলাকায় অজগর পাওয়া গেছে। তবে আগের ঘটনাগুলোতে উদ্ধার করা অজগরগুলোর আকার তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল। এবারই প্রথম প্রায় ১৪ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চলের কাছাকাছি বসতি ও বাজার থাকলে খাবারের সন্ধানে কিংবা চলাচলের সময় বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণীটিকে বিরক্ত না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বন বিভাগকে খবর দেওয়া জরুরি। এতে মানুষ ও বন্য প্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।










