যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হাইব্রিড যুদ্ধের তৎপরতা জোরদার করছে রাশিয়া। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ এর মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লন্ডনে এমআই৫ এর সদর দপ্তর থেমস হাউসে বার্ষিক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন হুমকির বিষয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট তৎপরতা, সাইবার হামলা, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য অভিযান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকি গুরুত্ব পায়।
ম্যাককালাম বলেন, চলতি বছরে ইরানের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশটি এখন সামরিক স্থাপনার মতো অধিক সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান ব্যবহার করা যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে চলমান তদন্তের কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এর আগে সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছিলেন, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে সন্দেহভাজন ষড়যন্ত্রের পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা বেশি। ওই ঘটনায় ব্যাপক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমআই৫ প্রধান বলেন, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের ঘটনার উদাহরণ রয়েছে।
রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাককালাম বলেন, দেশটি এখনো যুক্তরাজ্যের জন্য প্রধান রাষ্ট্রীয় হুমকিগুলোর একটি এবং আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। প্রচলিত যুদ্ধের সীমার নিচে থেকে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতার মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে মস্কো বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জার্মানির একটি বিমানবন্দরে কার্গো বিমানে ড্রোন হামলার চেষ্টা এবং পোল্যান্ডের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাইবার হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে রাশিয়া যুক্তরাজ্যে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ম্যাককালাম আরও জানান, গত এক দশকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা হুমকি চার গুণ বেড়েছে। ফলে শীতল যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তাঁর সংস্থাকে বেশি সম্পদ ব্যয় করতে হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এমআই৫ প্রধান। তাঁর মতে, সন্ত্রাসীরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরি কিংবা নতুন ধরনের রোগজীবাণু উদ্ভাবনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকা জরুরি।










