যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সরবরাহের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হতো।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল আরেফিন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী আসাদুল ইসলাম, এনবিআরের অফিস সহকারী নূর মোহাম্মদ এবং একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর।
অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, প্রবেশপত্র, সনদ, ব্যাংকের চেক, স্ট্যাম্প ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়েছেন বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল আরেফিন জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। নূর মোহাম্মদের কাছে প্রশ্নপত্র প্রথম সরবরাহকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করাকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
এসআরবি জানায়, ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ফোনালাপ ও চ্যাট পর্যালোচনা করেও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের ভূমিকা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।










