যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে দেশটি ফ্রান্সের মতো সহিংস অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার কানসাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবায় অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনাকে সামনে এনে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে গির্জার চূড়া জ্বলতে দেখা গেলে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এমন পরিস্থিতি চায় উগ্র ডেমোক্র্যাটরা।
বক্তব্যে অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী রাজনৈতিক ভাষাও ব্যবহার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের ভাষা অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মনোভাবকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।
কানসাসে কঠিন লড়াই
২০২৪ সালের নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে এবার সিনেট নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। তিনি একজন মেথডিস্ট গির্জার যাজক।
হ্যামিল্টনের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি শ্বেতাঙ্গ হিসেবে জন্ম নেওয়ার জন্য মানুষকে অনুতপ্ত হতে বলেন। অন্যদিকে মার্শাল তাঁর বক্তব্যে অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক ইস্যুকে গুরুত্ব দেন। তিনি হ্যামিল্টনকে কানসাসের জন্য অতিরিক্ত উদারপন্থী বলেও মন্তব্য করেন।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রভাব ফেলছে।
সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার প্রতি সমর্থন ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর জন্য রেকর্ড সর্বনিম্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া কয়েকজন রিপাবলিকান সমর্থকও নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে কানসাসের কয়েকজন কৃষক ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নীতির কারণে শস্য বিক্রির বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষি অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।










