নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা গেজেটা
কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। গত রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় শুনানি হয়নি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সেখান থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়।
মামলাটির বাদী পুলিশের উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর। এজাহারে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন রিসোর্টের প্রধান ব্যবস্থাপক সাঈদ আহমদ এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাইদ। তাঁদের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিমন ঘোষ নিহত ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় গেছেন। তিনি কক্সবাজারে ফিরে রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে অংশ নেবেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় ঠিক কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহতদের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আবারও তল্লাশি চালানো হলেও নতুন কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।








