নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা গেজেটা
উৎসবের আনন্দ আর বিদায়ের বিষণ্নতা নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পলাশী মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্য আর ‘বলো দুর্গা মাই কি জয়’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে আনা প্রতিমাগুলো জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর সড়ক ও রায়সাহেব বাজার হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। রাত ১০টার মধ্যে শোভাযাত্রাটি গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ায় দেবী দুর্গা কন্যারূপে মর্ত্যে আসেন। পাঁচ দিনের পূজা শেষে বিজয়া দশমীতে কৈলাসে স্বামীর গৃহে ফিরে যান তিনি। তাই এই দিনে একদিকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবীর বিজয় উদ্যাপন করা হয়, অন্যদিকে বিদায়ের বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে ভক্তদের মন।
বুধবার সকাল ৭টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিজয়া দশমীর পূজা শুরু হয়। সকাল ৯টায় দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ করেন এবং পরস্পরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে উৎসবে অংশ নেন।
এদিকে সকালে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজা কমিটির প্রায় ১০০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন বলেন, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাঁদের প্রত্যাশা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, নবমীর রাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। পূজার আয়োজন সফল করতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন আয়োজকেরা।
এ বছর বাংলাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ছিল ২৫৮টি মণ্ডপ।










