ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে সুযোগ দিতেই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনা সফল না হলে আবারও শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের আলোচনা করছি। যদি আলোচনায় কোনো সমাধান না আসে, তাহলে আমরা আবারও খুব শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেব।”
তিনি আরও বলেন, আলোচনার জন্য খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না। দ্রুত সমাধান না এলে বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানবিষয়ক দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শেই আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে হামলার কার্যকারিতা কমে এসেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুতও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এসব বিবেচনায় সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
আগামীকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে জানাবেন যে, “আমি যদি প্রেসিডেন্ট না হতাম, তাহলে এতদিনে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করত এবং ইসরায়েল বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত।”
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

