দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভার করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিজিএফসিএল পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার প্রত্যাশা করছে। এর ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির অবদান আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিএফসিএলের এই কর্মকর্তা বাসসকে জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি থাকায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন এবং পুরোনো কূপের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের ১৫০টি কূপ খননের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিজিএফসিএলের নেওয়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কূপগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে এসব উদ্যোগ।
তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কূপ খননের সফলতা এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর পুরো পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে।










