বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউস এরই মধ্যে ৯০ দিনের ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির খবর অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর গড়ে এক গ্যালন ডিজেলের দাম ৬ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছিল, যা এক মাস আগে ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৬১ ডলার। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়াকে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ডিজেল রপ্তানি কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এদিকে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও পরিশোধনাগারগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছায় রপ্তানি কমানোর বিষয়ে আলোচনা করছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এমন পদক্ষেপের প্রভাব শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে পরবর্তীতে দেশটির পরিশোধনাগারগুলোতে মজুত বেড়ে গেলে উৎপাদন কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এতে পেট্রলসহ অন্যান্য জ্বালানির বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলকে বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববাজারের সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে জ্বালানি খাত।








