বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাঁর সঙ্গে থাকা জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দ্বীপ ওই রাতের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। দ্বীপের দাবি, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট বা ১২টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন।
কালবেলা অনলাইনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় দ্বীপ জানান, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। একই মডেলের মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় তিনি সেটি চালু করতে সাহায্য করেন। পরে দুজন উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কিছু কাজ করানো হয়।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের কাজ শেষে তাঁরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ফিরে আসেন। পরে একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর দ্বীপ নিজের বাসার দিকে চলে যান। তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। তবে তিনি কোন কাজে কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দ্বীপ কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
দ্বীপ বলেন, মোটরসাইকেলের কাজ করতে তাঁদের প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছিল। সব মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। তাহসিফকে নিজের বয়সে বড় এবং কাছের একজন বড় ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কও ছিল বলে জানান দ্বীপ।
এর আগে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানিয়েছিলেন, দ্বীপের ফোন পেয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে বার্তা পাঠান বলে জানান তাঁর বাবা।
পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি উঠেছে। দ্বীপের দেওয়া বর্ণনা ওই রাতের একটি অংশ তুলে ধরলেও, এরপর তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।









