ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির দাবি, চুরি করা সম্পদ ইথেরিয়ামসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে পাচার করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, ‘ট্রেডারট্রেটর’ নামের একটি গোষ্ঠী এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত। গোষ্ঠীটি এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও অভিযুক্ত হয়েছিল।
এফবিআই সন্দেহভাজন ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীদের এসব ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত লেনদেন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, চুরি হওয়া সম্পদ ধাপে ধাপে বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা হতে পারে।
এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করতে তারা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ব্যবহার করে নতুন টোকেন কিনেছে। বাকি ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে স্বল্প তারল্যের টোকেন থাকায় তা পূরণ করতে আরও সময় লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতির আর্থিক দায় তারা নিজেরাই বহন করবে, ব্যবহারকারীদের ওপর এর প্রভাব পড়বে না।
টোকেন কেনার অর্থ এসেছে গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় রাখা সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজার্স (সাফু), ফিউচার্স ইন্স্যুরেন্স ফান্ড এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে। হামলার পর সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ থাকলেও রোববার থেকে উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স। ব্যবহারকারীদের সম্পদ যাচাইয়ের জন্য নতুন প্রুফ-অফ-রিজার্ভ তথ্যও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাক হওয়া ল্যাপটপ ও ক্ষতিকারক সফটওয়্যারের মাধ্যমে হামলাটি পরিচালিত হয়। হামলার পদ্ধতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কার্যক্রমের চিহ্ন মুছে ফেলা যায় এবং তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।










