দেশের বাজারে ছয় বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০৪ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮৯ টাকা। ২০২৪ সালে ছিল ১৬৫ টাকা এবং ২০২১ সালে ১৫০ টাকা। অর্থাৎ গত ছয় বছরে দাম বেড়েছে ৯৪ শতাংশেরও বেশি।
এদিকে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, এক লিটারের বোতলের দাম ২০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা তেল ১৮৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনো প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
সংগঠনটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে তেল বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে। গত ছয় মাসে প্রতি টন কাঁচামালের দাম ১ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩২৫ ডলারে উঠেছে।
অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকারকর্মীরা সয়াবিন তেলের বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, সরবরাহে অস্বচ্ছতা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে, কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বাড়ছে। তাই ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বাজারে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।










