যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। ৪২ বছর বয়সী মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের বিজয়কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭৮৯ সালে মার্কিন সিনেটের কার্যক্রম শুরুর পর আল-সাইয়েদই প্রথম মুসলিম হিসেবে এই কক্ষের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হলেও সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি।
শিক্ষা ও পেশাজীবন
মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিসরীয় অভিবাসী পরিবারে জন্ম আল-সাইয়েদের। রাজনীতিতে আসার আগে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন তিনি। ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে রোডস স্কলারশিপ নিয়ে ২০১১ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট করেন। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৫ সালে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে থেকে শহরটির জনস্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবিক ও প্রবীণ সেবাবিষয়ক বিভাগের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বিতর্ক
২০২৬ সালে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন আল-সাইয়েদ। তাঁর প্রচারে সমর্থন দেন বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও রাশিদা তালিবের মতো প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা।
স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ, আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে ধনী দাতাদের প্রভাব হ্রাস এবং শ্রমজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা এবং গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের কঠোর সমালোচনা তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
নির্বাচনী প্রচারে তাঁর মুসলিম পরিচয়ও বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে। আল-সাইয়েদ অভিযোগ করেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০০৬ সালে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আল-সাইয়েদের সিনেট জয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল।










