গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের ছবি দাবি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। দেশের একাধিক গণমাধ্যমেও ছবিটি তৌফিকের বাস্তব ছবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানায়, তৌফিকের ছবি দাবিতে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয়। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ছবিটি তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে গাজীপুরে আহত তৌফিক হোসেন ৩ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের সময় একাধিক গণমাধ্যমে বিতর্কিত ছবিটি ব্যবহার করা হয়।
যেভাবে এআই ছবি শনাক্ত
রিউমর স্ক্যানার জানায়, প্রচারিত ছবিতে যুবকের মুখাবয়ব ও ত্বকের গঠন অস্বাভাবিক রকম মসৃণ, যা এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ছবির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুক পোস্টে পাওয়া তৌফিকের কর্মস্থলের পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে প্রচারিত ছবিটির মিল পাওয়া যায়নি।
ছবিটি যাচাইয়ে গুগলের এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিনথআইডি ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি হাইভ ডিটেক্টে পরীক্ষার ফলাফলে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দেখানো হয়।
আরও অনুসন্ধানে তৌফিকের ফেসবুক প্রোফাইল ছবির সঙ্গে প্রচারিত ছবিটির পোশাক ও কানে থাকা ইয়ারফোনের মিল পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানারের ধারণা, তাঁর প্রোফাইল ছবিকে ভিত্তি করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে আলোচিত ছবিটি তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়ে থাকতে পারে।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান অনুযায়ী, তৌফিকের বাস্তব ছবি হিসেবে প্রচারিত ছবিটি এআই-তৈরি বা সম্পাদিত। ঘটনাটি সংবাদ প্রকাশে ছবি যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য ব্যবহারের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।










