চীনে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিয়ের সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলের অনেক পুরুষ জীবনসঙ্গী খুঁজতে ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হচ্ছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’-এর নামে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমনই এক ভুক্তভোগী ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াংয়ের ঘটনা উঠে এসেছে। বিয়ের আশায় তিনি গুইঝৌ প্রদেশের গুইইয়াংয়ে একটি ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে সম্ভাব্য কনের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের নিশ্চয়তা দেয়।
কয়েকজন নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর ওয়াং একজনকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, স্ত্রী তাঁর আগের বিয়ে, সন্তান, বয়স ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা তথ্য গোপন করেছিলেন। পরে স্ত্রীর বিপুল ঋণের বিষয়টিও জানতে পারেন তিনি। বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াং।
ওয়াং জানান, বিয়ে ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ ইউয়ান ব্যয় হয়েছে। ঘটকালি প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ও পরে বন্ধ হয়ে যায়।
চীনে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। দীর্ঘদিনের এক সন্তান নীতি ও পুত্রসন্তানের প্রতি সামাজিক অগ্রাধিকারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। ফলে বিয়ের বাজারে পুরুষদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারকে গাড়ি, বাড়ি ও বড় অঙ্কের ‘ব্রাইড প্রাইস’ দিতে হচ্ছে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালি-সংশ্লিষ্ট অপরাধে ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে এ খাতে অভিযানও শুরু করেছে।
আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা প্রমাণ করা কঠিন। কারণ অভিযুক্তরা অনেক সময় দাবি করেন, শুরুতে তাঁদের সত্যিই বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল। ফলে প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণ না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জটিল হয়ে পড়ে।










