বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার আল-আমিন। ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্টে মারামারির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার আল-আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। তবে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে ফিফার পক্ষ থেকে আল-আমিনের ১৫ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চিঠি পেয়েছে ফেডারেশন।
গত জুনে মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ এই ঘটনা ঘটে। গত ৭ জুন রাতে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হলেও শেষ মুহূর্তের ঘটনায় মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা
ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
খেলার যোগ করা সময়ে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান মালদ্বীপের খেলোয়াড় হাসান ইনাজ। এ ঘটনায় রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন। রেফারির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশের মিরাজুল ইসলামকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় ফরোয়ার্ড আল-আমিনও লাল কার্ড দেখেন।
রেফারিকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ
লাল কার্ড দেখানোর পর আল-আমিন নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বলে ম্যাচের ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি রেফারিকে ধাক্কা দেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।
কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর ম্যাচ আবার শুরু হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বাংলাদেশের অর্ধে আরেকটি বল দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।
মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারামারি। মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ঘটনার প্রভাব গ্যালারিতেও পড়ে। মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখে সেখানে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বড় শাস্তির মুখে আল-আমিন
ঘটনার পর বিষয়টি ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির নজরে আসে। তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আল-আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আগামী বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশকে আল-আমিনকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে। তার অনুপস্থিতি জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আল-আমিনের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল করা হলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, কিংবা শাস্তির মেয়াদ পরিবর্তন হবে কি না—তা পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানালে আল-আমিনের নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ, কার্যকর হওয়ার সময় এবং আপিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।










