দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, কয়লা সরবরাহে জটিলতা এবং ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বড় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কমে যাওয়ায় চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়েছে। এর ফলে সারাদেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের আটটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের মধ্যে বড়পুকুরিয়া ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রের কয়লার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করা হলেও সবচেয়ে বেশি কয়লা আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে।
ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রও সম্প্রতি কয়লা সংকট ও কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন কমিয়েছে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত বুধবার রাতে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। পরে রোববার দুপুরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে সন্ধ্যায় উৎপাদন বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে আদানির কেন্দ্রের উৎপাদন কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আগেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন সংকট তৈরি হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে ৬৫৭ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। বন্ধ ইউনিটটি চালু করতে প্রায় চার দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সোমবার এসএস পাওয়ার ১ হাজার ১১২ মেগাওয়াট, মাতারবাড়ী ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট, রামপাল ৮৯৫ মেগাওয়াট, পায়রা ৫৭০ মেগাওয়াট, বরিশাল ১৫০ মেগাওয়াট, পটুয়াখালী ৮০০ মেগাওয়াট এবং বড়পুকুরিয়া ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।
রোববার সন্ধ্যায় দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ১৭৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৯২৩ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি সামাল দিতে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়লা ভিজে যাওয়ায় কয়েকটি কেন্দ্রে উৎপাদন কমেছিল। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং বর্তমানে কয়লা থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কয়লা সুরক্ষায় আধুনিক মজুত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।










