হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পুরো হোস্টেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধ্যরাতে হোস্টেলে তাফসির ও শরীফ উদ্দিনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় লোহার রড, স্টাম্পসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাসরিফ আহমেদ, শরীফ উদ্দিন, রায়হান রাজ, রজব সানি, ফারদিন ইফতি, সামি, রিয়াদ, আব্দুল্লাহ চৌধুরী, সামিউল আল আরিফ ও হুজাফ সৌমিসহ আরও কয়েকজন।
তিনজনকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বিবেচনায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর হোস্টেল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাটি পরিদর্শন করে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত এক পক্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনাটি শুধুমাত্র সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেনি। তাদের অভিযোগ, ছাত্রশিবির সমর্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হোস্টেলজুড়ে এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।










