২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে দারুণ শুরু করেছিল টাইগাররা। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শেষ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেছেন, দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলা মোটেও সহজ ছিল না।
শান্ত বলেন, ‘এখানে আমরা ২৩ বছর পরে এসেছি। এমন কন্ডিশনে এই বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এত বছর পর খেলা সহজ নয়। যদি আমরা নিয়মিত আসতে পারতাম, তাহলে খেলোয়াড়রা মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত।’
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে। তিনি জানান, দলের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রিকেটার এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় খেলেননি।
শান্ত বলেন, ‘৯০ শতাংশ প্লেয়ার এখানে আগে খেলেনি। ফলে তারা জানে না কীভাবে মানিয়ে নিয়ে এমন বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলতে হয়। আমরা চাই এমন কন্ডিশনে নিয়মিত খেলতে, ২৩ বছর বা ২৫ বছর পরপর নয়।’
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল বড় হতাশার কারণ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দুই ইনিংসেই ব্যাটাররা খুব বেশি প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। ফলে মাত্র দুই দিনেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়।
তবে এমন ফলাফলকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না শান্ত। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগেও অনেক টেস্ট দুই বা তিন দিনে শেষ হয়েছে। বরং এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথমবার দুই দিনে খেলা শেষ হয়েছে এরকম নয়। এখানে অনেকবারই এভাবে দুই বা তিন দিনে খেলা শেষ হয়েছে। এটা হতেই পারে। দল হিসেবে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে যদি সামনে এগোতে চাই।’
ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন শান্ত। তিনি বলেন, বোলাররা নিজেদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন। তাই দলের ব্যাটারদেরও পরিস্থিতি বুঝে আরও কার্যকর ব্যাটিং করতে হবে।
শান্তের ভাষায়, ‘ব্যাটিংয়ে আমাদের ঠিকভাবে এগোতে হবে, কারণ বোলাররা ভালো করে যাচ্ছে। আমাদের আরও শিখতে হবে যে কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে যেতে পারি।’
দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারলেও পুরো সফর থেকে ইতিবাচক শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, এমন কঠিন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দলের কাজে আসবে।
তিনি বলেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে আমাদের। এই অভিজ্ঞতা সামনে এগোতে কাজে দেবে।’
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে প্রথম টেস্টে জয় এবং দ্বিতীয় টেস্টে বড় হার—দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। তবে নিয়মিত এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ খেলার সুযোগ পেলে ক্রিকেটাররা কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবেন বলে মনে করেন শান্ত।










