রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট তিন ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান।
এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া শুরু হয়েছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় রোববার গেটগুলো আরও খুলে দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। সন্ধ্যার পর তা বেড়ে প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের ওপর চাপ কমানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট বর্তমানে চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এসব ইউনিট থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে আরও প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।
পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ও চলাচলকারীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়েতে ১৬টি জলকপাট রয়েছে এবং পানি নির্গমনের পথটি প্রায় ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ। স্পিলওয়ে দিয়ে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।










