রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের চালানো এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া হামলায় মস্কো অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, গুদাম ও একটি তেল পরিশোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রি বোরোবেভ জানিয়েছেন, মস্কোর দিকে আসা ২৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তার দাবি, কয়েকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানায় আগুন ধরে যায়। রামেনস্কোয়ে জেলার একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গভর্নরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোফিয়ানো এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ওরেখোভো-জুয়েভো এলাকায় একটি বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত হন।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবায়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীর একটি ভবন এবং মস্কো তেল পরিশোধনাগারের একটি স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হেনেছে। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি ড্রোন তেল পরিশোধনাগার এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়। হামলার কারণে সেখানে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেলেও রাজধানীর ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হামলার পর মস্কোর আশপাশের কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও কিছু ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা ছিল।
রুশ কর্মকর্তারা হামলাটিকে বড় ধরনের আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেগুলোর সবকটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকাতেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি অবকাঠামো, শিল্প স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করে আসছে।










