ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ সাত মাসে গড়িয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেও যুদ্ধের অবসান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল হাশমি জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে সংলাপের প্রক্রিয়া এখনো চালু রয়েছে। কাতার ও অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান প্রদান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কাতার এর আগে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় দেশটি আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক ধ্বংসের পর দেশটি বর্তমানে কার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, তা ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারির নেতারাও আর নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, সেটিই একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে কাতারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রক্রিয়া চালু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কাতার এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চালু থাকা ভবিষ্যতে সংঘাত কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনায় কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বা কোনো সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কাতারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।










