হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার অনুপস্থিতির কারণেই বিমানবন্দরে আবারও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বেড়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এই দাবিকে মিথ্যা বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক সংস্থাটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, কে এম আবু নওশাদকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাকে পুনরায় বিমানবন্দরের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার দাবি করার যে ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়।
রিউমর স্ক্যানার জানায়, গত ৭ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কে এম আবু নওশাদের বর্তমান দায়িত্বের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তার পদবি সিনিয়র সহকারী সচিব এবং তিনি এখনো বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কে এম আবু নওশাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ধরনের তথ্য ছড়ায়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া কে এম আবু নওশাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজেও গত ৭ অক্টোবর বিমানবন্দরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের বিষয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে তিনি বিমানবন্দরে অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন। পোস্টে বলা হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণে বিমানবন্দরে চারজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
একই পোস্টে বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এতে স্পষ্ট হয় যে, কে এম আবু নওশাদ বিমানবন্দরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছেন, এমন দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল নেই।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে মূলত তার আগের কার্যক্রম এবং বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগকে একসঙ্গে উপস্থাপন করে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যাত্রীদের অভিযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অতএব, কে এম আবু নওশাদকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোর দাবি জানানো হচ্ছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।
সূত্র: রিউমর স্ক্যানার









