রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আলেমদের সম্পৃক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে আলেমদের উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় আলেম সমাজ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে তাদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত ন্যাশনাল ওলামা সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
চরমোনাই পীর বলেন, এই অঞ্চলের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ের পটপরিবর্তনে উলামায়ে কেরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে তাদের অনেক সময় সম্পৃক্ত করা হয়নি। এর ফলে যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ আন্দোলন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করেছে, তা সবসময় পূরণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আলেমদের রক্ত ও ঘামে অর্জিত পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তাদের উপেক্ষা করার ফল কখনো ভালো হয়নি। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির। ডেঙ্গু ও হামের মতো রোগে মানুষের মৃত্যু এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একের পর এক দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর সংকটের চাপ না দিয়ে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সামিট সকাল ৯টায় শুরু হয়। এতে চরমোনাই পীরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক জাতীয় আলেম এবং সহস্রাধিক ওলামা মাশায়েখ অংশ নেন। দুপুরের অধিবেশনে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ওলামা মাশায়েখদের করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সামিটের বক্তব্য পর্ব শেষে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ২০২৭ ২০২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদকে কেন্দ্রীয় সভাপতি, ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইনকে সিনিয়র সহসভাপতি, মুফতি রেজাউল করীম আবরারকে সাধারণ সম্পাদক এবং মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফীকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও ওলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মুফতি মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম এবং মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজীসহ অনেকে ছিলেন।










