বাংলাদেশে নিজ বাড়ি থেকে এক হিন্দু তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে মিথ্যা বলে শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। এটি ভারতের গুজরাট রাজ্যে গত জুনে এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগসংক্রান্ত ঘটনার দৃশ্য।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত থেকে পরিচালিত কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে ভিডিওটি প্রচার করে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে দিনের বেলায় এক হিন্দু তরুণীকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে একদল ব্যক্তি। এ দাবিতে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্ট প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত চার লাখের বেশি বার দেখা হয়। পোস্টটিতে আট হাজার আট শতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
রিউমর স্ক্যানার জানায়, অনুসন্ধানে ‘ইউডি নিউজ গুজরাট’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৪ জুন প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর বিবরণে ভারতের গুজরাটের বাদগামে এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ জুন গুজরাটের আরাবল্লী জেলার ধানসুরা তালুকার বাদগামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুসারে, এক তরুণ ও তরুণী একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। ওই তরুণ ও তাঁর বাবা কাজে যাওয়ার পর একটি কালো গাড়িতে করে তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি কাছাকাছি থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।
পরে তরুণীর সঙ্গী ধানসুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তরুণীর বাবা সহ তিনজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, একই ভিডিও এর আগে গত জুনে কক্সবাজারে এক নারীকে অপহরণের দাবিতেও প্রচার করা হয়েছিল। সে সময়ও ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
ফ্যাক্টচেকের ফলাফল অনুযায়ী, ভারতের গুজরাটের একটি ঘটনাকে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশে হিন্দু তরুণীকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার দাবিতে ভিডিওটির ব্যবহার বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা।
সূত্র: রিউমর স্ক্যানার, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও গুজরাট সমাচার










