যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, পরদিন থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এ কথা বলেন। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রয়েছেন।
আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। সেটি পর্যালোচনা করছে তেহরান। ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রে বৈরিতা বন্ধ করা। এসব শর্ত পূরণ না হওয়ায় আলোচনা এগোচ্ছে না বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান।
দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সমঝোতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এর আগে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং সেখানে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।










