জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাবের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো মানুষ। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, আলবেনিয়া ও বেলজিয়ামে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে চলা এসব আন্দোলনে তরুণদের পাশাপাশি শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকেরাও অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয় গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। দীর্ঘ সময় ক্লাস, শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তাঁরা। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদও এতে যুক্ত হয়।
ফ্রান্সের বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটি দ্রব্যমূল্য কমানো, মজুরি বৃদ্ধি ও পেনশন বাড়ানোর দাবি তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার তিন হাজার খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছু ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
স্পেনে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। একটি বিনিয়োগ তহবিলের বাড়িভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোর পর ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে বাসস্থান ছাড়তে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
পর্তুগালেও আবাসনসংকট বড় উদ্বেগের কারণ। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে বাড়ির দাম ১২৪ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে রাজধানী লিসবনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন।
ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। অন্যদিকে আলবেনিয়ায় দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। দেশটিতে একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
স্পেনে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় জরুরি আবাসন আইন পাসের উদ্যোগ সংসদে বিরোধিতার মুখে আটকে গেছে। ফ্রান্সেও সরকার বিক্ষোভ সামাল দিতে চাপের মুখে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আন্দোলনের পেছনে দেশভেদে কারণ আলাদা হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনসংকট ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ একটি সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বিভিন্ন দেশে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপ বিক্ষোভ কতটা কমাতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










