নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা গেজেটা
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অপতথ্য। এ ঘটনায় ভুয়া ছবি, পুরোনো ভিডিও এবং অন্য ঘটনার তথ্য ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
প্রতিষ্ঠানটির ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়ানো বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে নজরুল ও সিতির ছবি হিসেবে প্রচারিত দুটি ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। ছবিগুলো তাঁদের প্রকৃত ছবি নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া, কফিন ঘিরে মানুষের ভিড়ের একটি পুরোনো ভিডিওকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর দৃশ্য বলে প্রচার করা হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভিডিওটি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লক্ষ্মীপুরের দুই প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরানোর ঘটনার।
একইভাবে, সৌদিতে গাছচাপায় নিহত বাগেরহাটের সজল হাওলাদারের মরদেহ ফেরার পুরোনো ভিডিও এবং কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত এক তরুণীর বাবার সাক্ষাৎকারও ভুলভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আরেক প্রবাসীর মরদেহ ফেরার ছবিও একইভাবে ছড়ানো হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। রিউমর স্ক্যানার জানায়, সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভুলবশত হুথিদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে উত্তর দিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাইহীন ছবি, ভিডিও ও তথ্য প্রচার না করে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।









