ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৯ বছর বয়সী বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা, বিক্ষোভ সংগঠিত করার দক্ষতা এবং তরুণদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের কারণে তাকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। গত ১০ অক্টোবর পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটকের সময় তার হাসিমুখের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তরুণদের একটি অংশের মধ্যে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। এমনকি তাকে কেন্দ্র করে ভিডিও গেমও তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের খাটিমায় জন্ম নেওয়া নেহা দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই বামপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি ২৩ দিনের অনশনও করেন।
এদিকে পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচনী তালিকার পরিবর্তন ঘিরে সমালোচনার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মোদি সরকার চাপের মুখে রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী তালিকার পরিবর্তনে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সরকারের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা থাকলেই জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠা যায় না। নেহা বোরার সংগঠন এআইএসএর প্রভাব মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক। স্থায়ী ভোটব্যাংক ও বিস্তৃত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা এবং আন্দোলনে দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে নতুন রাজনৈতিক মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। নেহা বোরা দীর্ঘমেয়াদে মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।










