শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গলায় জুতার মালা পরানোরও অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানি আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা তাকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ৪ আগস্ট সকালে ওই তরুণী তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন ও ৭ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মনির ওই তরুণীকে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেন। এতে প্রতিবাদ করলে মনির তাদের তিন ভাই-বোনকে দোকানের পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেখানে তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে কয়েকজন মিলে তিন ভাই-বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং তাকে গলায় জুতার মালা পরানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলার পর রাতেই এজাহারভুক্ত দুই আসামি আফসানা সরদার (৫০) ও আমিরকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন নারীকে তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে কান্নাকাটি করতে এবং এক যুবককে তার হাত আরও শক্ত করে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে এক নারী তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং পরে তার চুল কেটে দেওয়া হয়। একইভাবে তার ছোট বোনকেও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মনির তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় তিন সন্তানকে জোর করে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীও অভিযোগ করেন, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার ভাই-বোনকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয় এবং তখন তাদের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। প্রথমে লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলেও পরে আবার অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










