নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি দলীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইফরান মিয়ার সঙ্গে সুনু মিয়া ও শাকিলের পক্ষের লোকজনের বিরোধ তৈরি হয়। এর মধ্যে স্থানীয় মৎস্যচাষি আব্দুর রহমানের মাছ পরিবহনে বড় গাড়ি ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে সুনু ও শাকিলের লোকজনের সঙ্গে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।
এ ঘটনায় ইফরান মিয়া আব্দুর রহমানের পক্ষ নেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে বুধবার সকালে সুনু মিয়া বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ইফরান মিয়ার লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহতদের মধ্যে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার বিষয়ে সুনু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইফরান মিয়ার সঙ্গে তাদের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। তার দাবি, আব্দুর রহমানও ইফরানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করেছেন।
অন্যদিকে আব্দুর রহমানের ছেলে আল মামুনের দাবি, মাছ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চলাচলে সুনু ও শাকিল পক্ষের লোকজন বাধা দিয়েছিলেন। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইফরান মিয়া ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষ বা সংশ্লিষ্ট বিরোধের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
ঘটনার বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি পেমই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পূর্ববিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই দ্রুত বিরোধের মীমাংসা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।










