রাজধানীর বাজারে সবজি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও এখনো স্বস্তি ফেরেনি ক্রেতাদের মধ্যে। কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও প্রতি ডজনে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। তবে অধিকাংশ ভোক্তার মতে, বর্তমান দাম এখনো তাদের ক্রয়ক্ষমতার তুলনায় বেশি। এর মধ্যেই নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে চিনি ও আটার দাম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সামগ্রিকভাবে স্বস্তি ফেরেনি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি বর্তমানে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ, পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ধুন্দল ও মুলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁকরোল, বরবটি, কচুর লতি ও মুখি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ টাকা কেজি। শসা ও চালকুমড়া ৫০ টাকা কেজিতে এবং লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও করলার দাম কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে এসেছে। পাকা টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজর ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও কমে কোথাও কোথাও ১২০ টাকা কেজিতে নেমেছে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম কিছুটা কমলেও বাজার এখনো তাদের জন্য ব্যয়বহুল। শনিরআখড়া বাজারের এক ক্রেতা বলেন, সবজির দাম ৫০ টাকার আশপাশে নামলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি আসত। তার মতে, দাম বাড়ার সময় যেভাবে দ্রুত বাড়ে, কমার সময় সেভাবে কমে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনে দাম আরও কমতে পারে। বিশেষ করে আমদানি করা কাঁচামরিচ বাজারে আসার পর এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ডিমের বাজারেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফার্মের বাদামি ডিমের দাম কমে প্রতি ডজন প্রায় ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার অনেক দোকানে এখনো ১৫০ টাকা দরে ডিম বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারিতে ডিমের দাম কমতে থাকলে খুচরা বাজারেও ডজনপ্রতি দাম ১৪০ টাকা বা তার নিচে নেমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় এটিও অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
সবজি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও নতুন করে বেড়েছে আটা ও চিনির দাম। বাজারে প্যাকেটজাত আটার কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। ময়দার দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়েছে।
চিনির বাজারে পরিস্থিতি আরও অস্থির। খোলা চিনি বর্তমানে কেজিপ্রতি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সরবরাহের ওঠানামার কারণে দাম বাড়ছে। অতিরিক্ত দামের কারণে কিছু দোকানি চিনি বিক্রি বন্ধ রেখেছেন বলেও জানা গেছে।
ভোজ্যতেলের বাজারেও চাপ রয়েছে। খোলা পাম অয়েল লিটারপ্রতি প্রায় ১৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিনের দাম এখনো বাড়েনি, তবে সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।
সব মিলিয়ে কিছু সবজি ও ডিমের দাম কমলেও চিনি, আটা ও ভোজ্যতেলের বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার খরচে চাপ অব্যাহত রয়েছে।










