বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক কোনো সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে যে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হয়েছিল, তা কিছুটা কমে এসেছে।
সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। ফলে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চাপ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দামে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হয়। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সেই বাড়তি মূল্য কমতে শুরু করেছে।
এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতিদের অব্যাহত হামলার মধ্যেও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হচ্ছে কি না, সেটিও বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণ করছেন। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, তেলের দাম থেকে এক ধরনের ঝুঁকিজনিত বাড়তি মূল্য সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা কমাতে চলতি সপ্তাহে কোনো কূটনৈতিক পথ বের হতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এর অন্যতম কারণ।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ফলে তেলের বাজারে সামনে আবারও দামের ওঠানামা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।









