আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষকের দায়িত্বে থেকে নিজে মূল্যায়ন না করে ছাত্রদের দিয়ে দেখানোর অভিযোগে নরসিংদীর এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার গদাইরচর আছিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। তিনি আলিম পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষকের দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক নিজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে তার ছাত্রকে দিয়ে বোর্ড পরীক্ষার খাতা দেখাচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
পরে বিষয়টি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় মামলা করেন। মামলাটি পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর আওতায় করা হয়েছে।
এদিকে উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দায়ে নাসির উদ্দিনকে পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের যাবতীয় পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তাকে আজীবনের জন্য দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলতা ও নিয়ম মেনে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।










