রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী হলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুনিরুল হক। এমনকি ছেলের ব্যবহারিক পরীক্ষার একটি গ্রুপেও তিনি পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে ভর্তি পরীক্ষার নথিতে উঠে এসেছে।
অধ্যাপক মুনিরুল হক ‘সি’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্যবহারিক পরীক্ষার তিনটি গ্রুপের মধ্যেও তিনি পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা তার সন্তান কিংবা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া ভবনে ওই শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতেও থাকার সুযোগ নেই।
তবে অধ্যাপক মুনিরুল হক তার ছেলে পরীক্ষার্থী—এ তথ্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাননি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তার ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী অংশে ৪৭ নম্বর পেয়ে ৩ হাজার ২৫৫তম হন। পরে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩১ পান। মোট ৭৮ নম্বর পেয়ে নিজ গ্রুপে অষ্টম স্থান অর্জন করেন তিনি।
বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যাপক মুনিরুল হক বলেন, ছেলে পরীক্ষার্থী হওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তিনি জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষায় তিনি শুধু পরিদর্শক ছিলেন এবং নম্বর দেওয়ার সুযোগ তার ছিল না। তবে নিয়ম কিছুটা লঙ্ঘন হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
‘সি’ ইউনিটের চিফ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা জানান, এমন ক্ষেত্রে লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক।
ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী নেতারা। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এটিকে প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন। ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমদ রাহীও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










