হৃদযন্ত্রের সমস্যা অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে সংকেত দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, পা ও পায়ের পাতায় ফোলা, অবশভাব, ব্যথা, ঠান্ডা অনুভূতি কিংবা ত্বকের রঙের পরিবর্তনের মতো কিছু লক্ষণ রক্তসঞ্চালন বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ দেখলেই হৃদরোগ হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারলে শরীরের বিভিন্ন অংশে তরল জমতে পারে। এর প্রভাব অনেক সময় পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় পা ফুলে থাকা বা চাপ দেওয়ার পর দাগ থেকে যাওয়াও শরীরে তরল জমার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি কিডনি বা রক্তসঞ্চালনের অন্যান্য সমস্যার কারণেও হতে পারে।
পায়ের ব্যথা বা হাঁটার সময় পেশিতে বারবার টান ধরার মতো সমস্যাও অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে পা অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অসাড়তা, দুর্বলতা কিংবা ত্বকের রং ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে গেলে রক্ত চলাচলে সমস্যা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
পায়ের এসব পরিবর্তনের সঙ্গে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা পিএডির সম্পর্ক থাকতে পারে। এই অবস্থায় পায়ের রক্তনালিতে চর্বি বা প্লাক জমে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে। ফলে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান, পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিছু প্রতিবেদনে পা নির্দিষ্ট কোণে তুলে কয়েক সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করে রক্ত চলাচলের পরিবর্তন বোঝার একটি ঘরোয়া পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন কোনো পরীক্ষা দিয়ে হৃদযন্ত্রে ব্লকেজ বা গুরুতর রোগ নিশ্চিত করা যায় না। পায়ের রঙের পরিবর্তন বা ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
এদিকে হৃদরোগের ক্ষেত্রে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে সবসময় তীব্র বুকব্যথা বা পরিচিত উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই পায়ে অস্বাভাবিক ফোলা, বারবার ব্যথা, অসাড়তা, ত্বকের রঙের পরিবর্তন বা হাঁটার সময় অস্বস্তি হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে হঠাৎ এক পা ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা বুকব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। শরীরের কোনো একটি লক্ষণ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সবচেয়ে নিরাপদ।








