নাক দিয়ে পানি পড়া, বারবার হাঁচি, চোখ দিয়ে পানি পড়া কিংবা নাক চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই একে সাধারণ সর্দি মনে করেন। তবে এসব লক্ষণ মৌসুমী ভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি অ্যালার্জির কারণেও হতে পারে। লক্ষণের ধরন ও স্থায়িত্ব বুঝতে পারলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
সর্দি ও অ্যালার্জির পার্থক্য
সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। সাধারণত প্রথম দুই থেকে তিন দিন লক্ষণ বেশি থাকে এবং সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে উন্নতি হয়। অন্যদিকে, অ্যালার্জি হয় যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর মৃত কোষের মতো উপাদানের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
অ্যালার্জির লক্ষণ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শে থাকার সময় পর্যন্ত চলতে পারে। এটি নির্দিষ্ট মৌসুমে দেখা দিতে পারে, আবার সারা বছরও থাকতে পারে।
যেসব লক্ষণে অ্যালার্জি বোঝা যেতে পারে
অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সাধারণত বারবার হাঁচি, নাক ও চোখ চুলকানো এবং নাক দিয়ে স্বচ্ছ পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। ধুলাবালি, ঘর পরিষ্কার করা কিংবা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে এলে এসব সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, সাধারণ সর্দির সঙ্গে গলাব্যথা, কাশি, ক্লান্তি এবং কখনো জ্বর বা শরীরে ব্যথা থাকতে পারে। অ্যালার্জিতে সাধারণত জ্বর বা শরীরব্যথা হয় না। তবে শুধু একটি লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে অ্যালার্জি ও সংক্রমণের পার্থক্য করা সম্ভব নয়।
চোখের লক্ষণেও সতর্ক থাকুন
হাঁচি ও নাক চুলকানোর পাশাপাশি চোখ লাল হওয়া, চুলকানো কিংবা চোখ দিয়ে পানি পড়া অ্যালার্জিজনিত কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। একই সমস্যা বারবার নির্দিষ্ট পরিবেশে বা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে দেখা দিলে পরিবেশগত অ্যালার্জির সম্ভাবনা বিবেচনা করা যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে, ঘুম বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটালে কিংবা দুই সপ্তাহেও উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর দেখা দিলেও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালার্জি পরীক্ষা বা অন্যান্য মূল্যায়নের পরামর্শ দিতে পারেন। ভাইরাসজনিত সর্দিতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়।










