দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ, বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশের জন্য দায়ী হৃদরোগজনিত জটিলতা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে ‘সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন: সমন্বিত কৌশলগত প্রচার গবেষণা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৭ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে। এসব রোগের মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান মৃত্যুর কারণ। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ব্যায়ামভিত্তিক কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন বা হৃদরোগ পুনর্বাসন কর্মসূচি পরবর্তী হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে, হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি হওয়ার হার হ্রাস করতে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করে।
ড. মুহিত আরও বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। হার্ট অ্যাটাকের পর অনেক রোগী মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগেন। বিশেষ করে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে এসব সমস্যার বিষয়টি গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তিনি আশ্বাস দেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন মডেল বাস্তবায়নে সরকার নীতিগত ও কাঠামোগত সহায়তা দেবে। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগার বা বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্য নীতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা ও বাজেট বরাদ্দের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ গবেষণার মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা বাড়বে এবং দেশে হৃদরোগ পুনর্বাসনের টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণার প্রধান ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রড এস টেলর। আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিউদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জে এম এ হান্নান।










