কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, ইরানি পতাকাবাহী জাহাজে হামলা মানেই ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত, যার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে বলেন, কাস্পিয়ান সাগরে সংঘটিত এ হামলাকে শুধু একটি জাহাজে হামলা হিসেবে দেখা যাবে না; এটি কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আক্রমণের শামিল।
পেসকভের অভিযোগ, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে তার সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ইউক্রেন অতীতেও নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন এবং কাজাখস্তানের সিপিসি পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করে আঞ্চলিক অবকাঠামোর ক্ষতি করেছে।
গত শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এ ঘটনার পর ইরান ও রাশিয়া উভয়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী কেবল সেই জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেগুলো সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কার্গো পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
হামলার ঘটনায় ইরানও কড়া অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং দায়ীদের মূল্য দিতে হবে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজিও একই সুরে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় তেহরান নীরব থাকবে না।

