দেশে বিচারপ্রক্রতিতে দীর্ঘদিনের মামলার জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আদালতের ওপর চাপ কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (ডিবিএলএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা (সেল্প) কর্মসূচির পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, দেশে আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব করতে ধারাবাহিক সংস্কার চলছে। সরকারের একার পক্ষে মামলার জট কমানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতা ও আইনি সহায়তায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলায় নির্দিষ্ট কিছু আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়েরের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশের বেশি কমেছে। এটি এডিআর কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কোর্ট প্যারালিগ্যাল নিয়োগ করে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির আওতায় মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান, সফল মধ্যস্থতার আইনগত স্বীকৃতি এবং যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, ব্লাস্ট, ব্র্যাক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

