গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে রাজধানীতে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জোটটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনের মুক্তাঙ্গন এলাকায় আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
জোটের নেতারা বলেন, দেশের জনগণের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। তারা প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ১৪ নভেম্বরের মহাসমাবেশকে সফল করতে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের উদ্দেশে ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনার কথা জানান জোটের নেতারা।
তারা দাবি করেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ের আন্দোলন আরও বেগবান করার ঘোষণা দেন তারা। ১৪ নভেম্বরের মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন জোটের নেতারা।










